হোস্টিং কাকে বলে ? Web hosting কত প্রকার

হোস্টিং কাকে বলে? ওয়েব হোস্টিং কেনো প্রয়োজন, ওয়েব হোস্টিং কেনার উপায়, এবং ওয়েব হোস্টিং কিভাবে আর কোন জায়গা থেকে কিনবেন এবং ওয়েব হোস্টিং কতো প্রকার?

ওয়েল আপনি আমি আজ আপনাকে সম্পূর্ণ একটি গাইডলাইন দিবো, ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে। যার থেকে আপনি একটা সুপস্ট ধারনা পেয়ে যাবেন, ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে।

ওয়েব হোস্টিং কি?

ওয়েব হোস্টিং কি? একটু সহজ করে বলি,মনে করুন আপনি একটি বাড়ি বানাবেন, এখন বাড়ি বানাতে গেলে আপনার সর্বপ্রথম দরকার পড়বে জমির,রাইট?

তো ওয়েব হোস্টিং ও বলা চলে আপনার সাইট এর জমি। আপনি যেমন জায়গা ছাড়া বাড়ি করতে পারবেন না, তেমনই হোস্টিং ছাড়া ওয়েব সাইট বানাতেও পারবেন না।

হোস্টিং কেন প্রয়োজন? হোস্টিং প্রয়োজন তার কারন আপনি যখন অনলাইনে কিছু রাখবেন।

আমি এখানে রাখা বলতে ডাটা স্টোর করার কথা বলছি।

উধাহন স্বরূপ, আপনি একটা ব্লগ ওয়েব সাইট করলেন, এখন আপনার ব্লগে নিঃসন্দেহে অনেক টেক্সট (Text) থাকবে, এবং অনেক পিকচার (Picture) ও থাকবে।

এই টেক্সট গুলা বা পিচকার গুলার একটি ফাইল সাইজ হয়ে থাকে, টেক্সট এর ক্ষেত্রে অনেক কম ধরুন ৪০/৪৫ কেবি (Kbps) আর পিকচার এর ক্ষেত্রে ফাইল সাইজ টা একটু বেশি হয়ে থাকে। এটাও নির্ভর করে আপনি কি ফরমেট এর পিকচার ব্যবহার করছেন তার উপর।

এখন আপনি যে এই টেক্সট গুলা বা পিকচার গুলা আপনার ওয়েবসাইটে রাখবেন, কিন্তু কিভাবে রাখবেন? হয় আপনার নিজেকেই একটা ওয়েব হোস্টিং সার্ভার বানাতে হবে, আর নয় আপনাকে অবশ্যই হোস্টিং কিনতে হবে।

হোস্টিং কাকে বলে ? Web hosting কত প্রকার

What is web hosting explanation in bangla

প্রস্ন আসতেই পারে আপনার মাথায় – আমি ওয়েব সাইট বানানো কিন্তু আমি হোস্টিং না নিয়ে নিজে নিজে একটা ওয়েব হোস্টিং বানিয়ে কি ব্যবহার করতে পারি না?

উত্তর না, আবার হ্যাঁ ও, যেমন একটা ওয়েব হোস্টিং সার্ভার বানাতে অনেক টাকা লেগে যায়। সেই সাথে আপনার আরও আনুসংগিত আরও জিনিস পত্র তো আছে।

তবে আপনার কাছে যদি অঢেল টাকা থাকে এবং আপনি চান যে আপনি নিজের জন্য নিজেই একটা ওয়েব হোস্টিং সার্ভার বানাবেন, তাহলে তা করতে পারেন।

এখন মুল প্রসঙ্গে জাওয়া যাক। আমি যেমন টা বলছিলাম আপনার ওয়েবসাইটে টেক্সট বা পিকচার গুলি রাখার জন্য একটা স্পেস এর প্রয়োজন হয়, এবং সেই স্পেস টাকেই হোস্টিং বলে।

হোস্টিং কাকে বলে? (হোস্টিং এর প্রকারভেদ)

হোস্টিং সাধারনত ৫ প্রকার, শেয়ার হোস্টিং (Share Hosting), ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং (WordPress Hosting), ভিপিএস হোস্টিং (VPS Hosting), ক্লাউড হোস্টিং (Cloud Hosting), ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting) আমি বিস্তারিত বুঝিয়ে বলছি।

  • Share Hosting
  • WordPress Hosting
  • Cloud Hosting
  • VPS Hosting
  • Dedicated hosting

 শেয়ার হোস্টিং কি? মনে করুন আপনি একটা জায়গাতে ট্রাভেল করতে গিয়েছেন। এখন আপনার কাছে বাজেট টা অল্প, এখন আপনার থাকার জন্য একটা রুম চাই?

কিন্তু আপনার যা বাজেট তাতে আপনার একার পক্ষে একটা রুম নিয়ে একা থাকা পসেবল না। তখন আপনি যে জায়গা তে গিয়েছেন ওখানে দেখলেন একটা অপশন আছে।

অপশন টা এমন আপনি চাইলে অল্প খরচে রুম শেয়ার করে থাকতে পারেন অর্থাৎ আপনি অন্ন কারো সাথে রুম ভাগাভাগি করে থাকতে পারেন।

ফলে কি হল আপনার বাজেট নিয়ে কোন প্রবলেম হল না, এবং আপনি অল্প বাজেটে একটি রুম পেয়ে গেলেন। তবে এই রুম এর একটাই সর্ত আপনাকে রুম টি শেয়ার করে থাকতে হবে।

ঠিক এরকম ই ভাবেই শেয়ার হোস্টিং কাজ করে। আর এটাকেই শেয়ার হোস্টিং বলে।

আপনি যদি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য শেয়ার হোস্টিং বেস্ট হবে।

নতুন অবস্থাথায় শেয়ার হোস্টিং নিয়ে ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি নেই বা কোন প্রবলেম ও নেই। তবে দেখার বিসয় এটা যে আপনি হোস্টিং টা নিচ্ছেন কাদের বা কোথা থেকে।

তাদের সার্ভিস কেমন, আপ-টাইম কেমন, মানি ব্যাক গ্যারান্টি দিচ্ছে কতো দিনের,২৪/৭ আপনাকে সাপোর্ট দিচ্ছে কিনা। যদি দেখেন সব ঠিক থাক আছে তবে চোখ বন্ধ করে নিতে পারেন।

আর হ্যাঁ, আপ-টাইম যদি ৯৯.৯৫ এর নিচে হয় তাহলে তাদের থেকে হোস্টিং না নেওয়াই ভালো।

হোস্তিং কেনার পূর্বে এই বিষয় গুলি মাথায় থাকলেই চলবে। এখন শেয়ার হোস্টিং এর দাম কেমন হয়ে থাকে।

ওয়েল আমাদের দেশে সর্বনিম্ন ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত শেয়ার হোস্টিং কিনতে পাওয়া যায়। আপনার চাহিদা অনুপাতে আপনি কিনতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শেয়ার হোস্টিং থেকে বেশ ভালো বলতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ও এক প্রকার শেয়ার হোস্টিং।

তবে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শেয়ার হোস্টিং থেকে তুলনামূলক বেসি ফাস্ট, এবং এই ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং – ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য অনেক বেশি অপ্টমাইজ হয়ে থাকে।

ফলে আপনার সাইট এর স্পীড ও বৃদ্ধি পায়, এবং আপনার সাইট ডাউন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম থাকে।

তবে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শুধু ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্যই বেস্ট। আপনি চাইলেই অন্ন কোনো স্ক্রিপ্ট ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এ ইন্সটাল করতে পারবেন না।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং শুধুই ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য অপ্টিমাইজ করে বানানো।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর দাম? শেয়ার হোস্টিং থেকে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর দাম বেশ অনেক টাই বেশি। আপনি আমাদের দেশে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০০ টাকার ভিতর পেয়ে যাবেন প্রতি বছরের জন্য।

ভার্চুয়াল প্রাইভেট হোস্টিং

শেয়ার হোস্টিং এ যেমন আপনাকে অনেকের সাথে ভাগাভাগি করে একটি রুম শেয়ার করা লাগে।

ভিপিএস এর ক্ষেত্রে বাপার টা তেমন নয়। ভিপিএস হোস্টিং এ আপনাকে একটি রুম ধরেই দিয়ে দেওয়া হয়। আপনি সেই রুমের মালিক আপনি যা খুশি করতে পারেন আপনার রুমে।

মানে আপনি যখন একটু অভিজ্ঞ হয়ে যাবেন, আপনার ওয়েবসাইট ও একটু পপুলার হয়ে যাবে।

মোটামুটি সংখার একটা ট্রাফিক আপনার সাইতে থাকবে, তখনি আপনার ভিপিএস হোস্টিং এর প্রয়োজন পড়বে।

আর ভিপিএস হোস্টিং শেয়ার হোস্টিং এবং ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং থেকে বেশি লোড ও নিতে পারবে। এবং আপনার সাইট আরও বেশি ফাস্ট করে তুলবে।

ভিপিএস হোস্টিং এর দাম? আমাদের দেশে ভিপিএস হোস্টিং এর দাম প্রতি মাসের জন্য ৪০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০০ টাকার ভিতর পেয়ে যাবেন।

ক্লাউড হোস্টিং

আপনার সাইটে অনেক বেশি ট্রাফিক হচ্ছে, আপনার সাইট আর লোড নিতে পারছে না তখনি আপনার ক্লাউড হোস্টিং এর প্রয়োজন পড়বে।

মানে এখন বিষয় টা এমন আপনার একটা রুমে এখন হচ্চে না, আপনার রুমের জিনিস পত্র অনেক বেশি, আপনার ওই একটা রুমই চাই তবে শেয়ার, বা, ওয়ার্ডপ্রেস এর রুমের থেকে আরও বেশি বড়।

ক্লাউড হোস্টিং মূলত শেয়ার, ওয়ার্ডপ্রেস, ভিপিএস এই সব কিছুর থেকে বেশি ফাস্ট হয়ে থাকে।

আপনি নামেই হয়তবা বুজতে পারছেন ক্লাউড হোস্টিং। আর একটু বুঝিয়ে বলি, এই যে গুগল ড্রাইভ, আপনি এখানে কিন্তু আপনার ফাইল রাখতে পারছেন।

তবে আপনি যে ফাইল টা রাখছেন টা কিন্তু শুধু মাত্র ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড থাকছে। আপনি ইন্টারনেট ছাড়া কি গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারছেন না।

ক্লাউড হোস্টিং ও ঠিক তেমনই, অনেক গুলা সার্ভার একত্রিত করে একটি যায়গাতেই এসে সব কিছু এক করে দেওয়া।

আর একটু দিপ্লি বুঝাই ধরুন একটি সার্ভার, ইন্ডিয়া তে, একটি ইউএস তে, একটি বাংলাদেশে। এভাবেই সব সার্ভার কে একত্রিত করে একটি ক্লাউড সার্ভার হয়ে থাকে।

ফলে কি হয় দেখুন।

যখন আপনার সাইটে ইন্ডিয়া থেকে ট্রাফিক আসবে, তখন ওই ইন্ডিয়ান সার্ভার আপনার সাইট হান্ডেল করবে, আর যখন বাংলাদেশ থেকে আপনার সাইট এ ট্রাফিক আসবে তখন বাংলাদেশে থাকা সার্ভার হান্ডেল করবে।

অর্থাৎ কি হবে আপনার সাইট দিগুন ফাস্ট হয়ে যাবে।

কেন ফাস্ট হবে বলছিঃ- আপনি শেয়ার হোস্টিং, ওয়ার্ডপ্রেস, ভিপিএস এসকল হোস্টিং এর সার্ভার লোকেশন এক যায়গাতেই থাকে।

যেমন আপনার সার্ভার আছে ইন্ডিয়া তে, আর আপনার সাইটে ট্রাফিক আসছে বাংলাদেশ থেকে। তখন কি হয় বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া তে থাকা অই সার্ভার এ রিকুয়েস্ট যাবে তারপর বাংলাদেশে থাকা ট্রাফিক এর কাছে আসবে।

কাজেই একটু দেরি তো হবেই।

কিন্তু ক্লাউড হোস্টিং এ এমন টা হয় না। একটা ক্লাউড হোস্টিং এ অনেক গুলা দেশে অনেক গুলা সার্ভার থাকে। যার জন্য আপনার সাইটে যে কোন দেশ থেকে ট্রাফিক আসুক না কেন আপনার সাইট কখনই ডাইন হবে না।

ডেডিকেটেড হোস্টিং

ডেডিকেটেড হোস্টিং এ আপনার কোন লিমিটেসন থাকবে না।

অর্থাৎ আপনি ডেডিকেটেড হোস্টিং এ সম্পূর্ণ একটি বাড়ি ধরে পেয়ে যাচ্ছেন।

যেখানে অন্যান্য হোস্টিং এ আপনাকে একটি রুম দেওয়া হইছিলি,আর এখানে আপনাকে একটি বাড়ি ধরে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে পার্থক্য টা বুজতেই পারছেন।

আর এ জন্যই এটাকে ডেডিকেটেড হোস্টিং হোস্টিং বলা হয়ে থাকে। আর এটাই ডেডিকেটেড হোস্টিং।

আপনার সাইটে জত জত ট্রাফিক আসুন না কেন, আপনার যদি ডেডিকেটেড হোস্টিং নেওয়া থাকে তাহলে আপনার সাইট কখন ডাউন হবে না।

এবং আপনার সাইট অনেক বেশি ফাস্ট লোডিং হবে অন্যান্য হোস্টিং এর তুলনায়।

তবে প্রবলেম একটাই ডেডিকেটেড হোস্টিং এর দাম টা বড্ড বেশি।

মানে বলা চলে অন্যান্য হোস্টিং এর থেকে দিগুন, তিগুন বেশি। তবে এটাও দেখবে হবে আপনাকে সার্ভিস টাও তো অনেক ভালো দিচ্ছে। আর এ জন্যই টাকা বেশি।

আমাদের দেশে ডেডিকেটেড হোস্টিং এর জন্য প্রতি মাসের জন্য ১৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০০ হাজার টাকার ভিতরে পাওয়া যায়।

হোস্টিং কেনার আগে যা লক্ষ রাখবেন

আপনি যদি একদম নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য শেয়ার হোস্টিং বেস্ট চয়েচ হতে পারে। আর যদি আপনি একটু এডভান্স হয়ে যান তখন আপনি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন।

তবে আপনি প্রফেসনালি কাজ করতে চাইলে আমি বলবো আমি ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহার করুন,অথবা ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করুন।

এবং আপনার সাইট যদি অনেক বেশি পপুলার হয় এবং অনেক বেশি ট্রাফিক সামলাতে হয় তাহলে আপনি ডেডিকেটেড হোস্টিং এর সাথে মুভ করতে পারেন।

তবে আমার মতে আপনার প্রথম অবস্থায় ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এ যাওয়া টাই ভালো হবে।

কেননা ওয়ার্ডপ্রেস শেয়ার হোস্টিং এর থেকে অনেকটা ভালো। আর যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর জন্য অপ্তিমাইজ করা এই জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ব্যবহার করা ভালো।

আপনি আপনি যদি নতুন অবস্থায় অন্ন কোন স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ব্যবহার না করার পরামর্শ থাকবে। কেননা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টং শুধু মাত্র ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্যই।

At The End

আমি চেষ্টা করেছি আপনাকে হোস্টিং নিয়ে পরিপূর্ণ একটা ধরনা দিতে।

আশা করছি web hosting কি? এই বিষয়ে আপনি জেনে নিতে পেরেছেন ও নতুন কিছু শিখতে পেরেছেন।

এই বাইরেও যদি web hosting (ওয়েব হোস্টিং) সম্পর্কিত আরও কিছু জানবার বা কোন প্রশ্ন থাকলে তা নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন।

Hi, i'm Akash Golder, Author & founder of DotBangla. A blog that provides authentic information regarding technology, blogging, SEO, online earn money, how to guide & much more.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *